চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক (চুক্তিভিত্তিক) ডা. মো. আব্দুল ওয়াদুদ (নাজিব ওয়াদুদ)। তিনি ২০২৪ সালের ‘প্রফেসর ইমেরিটাস ড. মুক্তার মুহাম্মদ আলী অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন। উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষকদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ প্রতি বছর একজন সেরা গবেষককে এই সম্মাননার জন্য মনোনীত করে। গবেষকের পিএইচডি চলাকালীন প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা এবং তার গুণগত মান বা ইমপ্যাক্ট বিবেচনা করে এই চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ডা. ওয়াদুদ তাঁর পিএইচডি গবেষণা চলাকালীন আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘স্কপাস’ অনুমোদিত জার্নালে মোট ১২টি মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে দেশের ও বিদেশের অন্যান্য খ্যাতনামা জার্নালে তাঁর আরও আটটি যুগান্তকারী গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ড. ওয়াদুদ শিক্ষাজীবনেও দারুণ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ২০২০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (আইবিএসসি) থেকে এমফিল সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডা. ওয়াদুদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা স্মারক ও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন রাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর আব্দুল আলিম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ছায়েদুর রহমান। এ সময় বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসা ও বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও ডা. নাজিব ওয়াদুদের রয়েছে সরব ও উজ্জ্বল উপস্থিতি। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৫টি। অনন্য সাধারণ এই সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি এর আগেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠান থেকে নানা পুরস্কার, পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। নতুন এই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তাঁর চিকিৎসা-গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের পরিধিকে আগামীতে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
