গ্রীষ্মের দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হতে হয় তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার কারণে ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে পড়ে। ফলে বাইরে বেরোলেই ধুলো-ময়লা জমে মুখের রোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি, ব্ল্যাকহেডস এবং নানাবিধ অ্যালার্জির প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এমনকি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও কপাল বা নাকের চারপাশে তেলের আস্তরণ দেখা দেয়। এই চিটচিটে ভাব দূর করতে বাজারে নানা রাসায়নিক প্রসাধনী পাওয়া গেলেও, ত্বকের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি মেলা ভার। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি তিনটি বিশেষ প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে এই গরমের মরসুমেও ত্বক থাকবে সতেজ ও তেলমুক্ত।
১. তরমুজ ও মুলতানি মাটির প্যাক
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে, যা গরমের দিনে ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। এই প্যাকটি তৈরি করতে প্রথমে কয়েক টুকরো তরমুজ ব্লেন্ডারে পিষে রস ছেঁকে নিন। এরপর দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে চার টেবিল চামচ তরমুজের রস মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। পরিষ্কার মুখে এই প্যাকটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠেও এটি ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত তেলভাব দূর হবে এবং হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
২. শসা ও অ্যালোভেরার সতেজতা
ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে এবং শীতলতা জোগাতে শসা দারুণ কার্যকর। আর অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে দুই টেবিল চামচ শসার রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। ১০ থেকে ১২ মিনিট রেখে ত্বক ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে নিমেষেই সতেজ ভাব এনে দেয়।
৩. ব্রণের সমস্যায় নিমের প্যাক
তৈলাক্ত ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হলো নিম। নিমে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বা প্রদাহনাশক উপাদান, যা ব্রণ এবং ফুসকুড়ির সমস্যা দ্রুত কমায়। কয়েকটি টাটকা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পাতাগুলো বেটে সরাসরি ত্বকে লাগাতে পারেন। কার্যকারিতা বাড়াতে এই নিম বাটার সাথে সামান্য গোলাপ জল কিংবা বেসন মিশিয়ে নেওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের সংক্রমণ রোধে এই ভেষজটি নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে শুধু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই চলে না, বরং প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ঘরোয়া এই প্যাকগুলো ক্ষতিকারক রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় সব ধরনের ত্বকেই নিরাপদ। তবে গরমের এই সময়ে বাহ্যিক রূপচর্চার পাশাপাশি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা এবং তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। সামান্য এই সতর্কতা আর নিয়মিত প্রাকৃতিক যত্নই এই তীব্র গরমেও আপনার ত্বককে রাখবে স্নিগ্ধ, প্রাণবন্ত ও দাগহীন।
