সুস্থ থাকা কিংবা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই প্রতিদিনের ক্যালরি মেপে খাবার খান। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণাকে এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে নতুন একটি গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুস্থতা বা আদর্শ ওজন বজায় রাখার বিষয়টি কেবল ক্যালরি গণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা কখন খাচ্ছি এবং কীভাবে খাচ্ছি—তার ওপর আমাদের শরীরের ভালো-মন্দ অনেক বেশি নির্ভর করে।
গবেষকদের মতে, একজন মানুষ কত দ্রুত খাবার খাচ্ছেন এবং তা কতটুকু চিবিয়ে গিলছেন, সেটি পরিপাক ও বিপাক প্রক্রিয়ার (মেটাবলিজম) গতি নির্ধারণ করে। যারা তাড়াহুড়ো না করে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করেন, তাদের পরিপাকতন্ত্র অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। ভালোমতো চিবানোর ফলে খাবার সহজে হজম হয়। ফলে অল্প খাবার খেলেও দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে, দ্রুত খাবার খেলে পেট ভরার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলে। ধীরে খাওয়ার অভ্যাস এই প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি সাহায্য করে।
খাবারের সময়ের বিষয়টিও সুস্থতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের একটি নির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের শক্তি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাবার খেলে শরীর পুষ্টি উপাদানগুলো সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে।
লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকদের করা একই ধরনের কিছু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষাও বলছে, অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস বা রাতে দেরিতে ভারী খাবার গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়িকে নষ্ট করে দেয়। ফলে খাবার পুষ্টিকর হলেও তা শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই কেবল পুষ্টিকর খাবার বেছে নিলেই মিলবে না পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা। শরীরকে রোগমুক্ত ও ফিট রাখতে হলে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাওয়ার সঠিক সময়সূচি, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রার প্রতি সমান নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের যাপনে এই ছোট পরিবর্তনগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
