দেশের চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে ঠাকুরগাঁও জেলায় একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই নতুন কলেজটি যুক্ত হওয়ার পর দেশে বর্তমানে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮টিতে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার এই সরকারি মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু করেছে প্রশাসন। মূলত দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করার লক্ষ্যেই সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুনটি বাদে দেশে এখন ৩৭টি সরকারি এবং ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধীনে এবং বিইউপির তত্ত্বাবধানে ৫টি এবং রাজধানী ঢাকায় একটি সশস্ত্র বাহিনী মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি) তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও, অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫০টি আসন বিশিষ্ট আরও একটি নতুন মেডিকেল কলেজ চালু করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে মেডিকেল কলেজগুলোর আসন সংখ্যা নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই আসন বিন্যাসের পর এখন দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট ৫ হাজার ১০০টি আসন রয়েছে। একই সাথে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়াশোনার জন্য আসন রয়েছে ৬ হাজার ১টি। এর বাইরে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সবকটি কলেজের আসন হিসাব করলে দেখা যায়, বর্তমানে পুরো দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বমোট ১১ হাজার ৫২৬টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এবং নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এই নতুন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে এর মাধ্যমে স্থানীয় অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারাও খুব সহজে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবার আওতায় আসতে পারবেন।
