বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অফিসে কাজের মাঝেই অনেকের চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসে। কোনোভাবেই কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যেতে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি অভিজ্ঞতা। অনেকেই এই সমস্যার জন্য কাজের চাপ কিংবা অনিয়মিত ঘুমকে দায়ী করে থাকেন। তবে পুষ্টিবিদরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
তাদের মতে, একটানা অতিরিক্ত পরিশ্রম ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় কোনো কিছু দিয়েই শরীরকে সহজে চাঙ্গা করা যায় না। তবে অত্যধিক পরিশ্রম ছাড়াও শরীরে নির্দিষ্ট দুটি ভিটামিনের অভাব ঘটলে এমন অতিরিক্ত ক্লান্তি ও আলস্য ভর করতে পারে। এই প্রয়োজনীয় উপাদান দুটি হলো ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডি।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকলে অবসন্নতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ভিটামিন ডি-এর অভাব ঘটলে শারীরিক দুর্বলতা এবং ঘন ঘন ঝিমুনির সমস্যা তৈরি হয়। এর ঘাটতি হাড়ের নানা সমস্যারও জন্ম দেয়। অনেকেই এই কারণে হাঁটুতে ব্যথার মতো জটিলতায় ভোগেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না। এটি মানুষের চুল, ত্বক ও নখের স্বাস্থ্যের জন্য সমান উপকারী। এমনকি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই পুরো শরীরকে সবসময় চনমনে ও সতেজ রাখতে ভিটামিন ডি-এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, মানবদেহের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি১২ একটি অপরিহার্য উপাদান। বিশেষ করে রক্তের কোষ ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এই ভিটামিনের গভীর প্রভাব রয়েছে। শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিলে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চরম ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
তাই দিনের সিংহভাগ সময় যদি শরীরে অবসন্নতা ও অসাড়তা কাজ করে, কিংবা কাজের মাঝে বারবার ঘুম পাওয়ায় কোনো কাজেই মন বসানো না যায়, তবে বিষয়টি মোটেও অবহেলা করা ঠিক হবে না। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে শরীরে এই দুটি জরুরি ভিটামিনের মাত্রা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
